সময় অতি অল্প

2022-04-27T06:16:36
সময় কখনো ফিরে আসে না । মানুষের জীবনে সময়ের মূল্য সবচেয়ে বেশি। সময়কে আটকে রাখা যায় না। সময় নিজের মতই চলমান। আমাদেরকেই সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের জীবন পরিচালনা করতে হয়। অনেক সময় সময় অনেক তাড়াতাড়ি চলে যায়। আবার অনেক সময় সময় যেতেই চায়না। সবদিক মিলিয়ে সময়ের সাথেই আমাদের জীবন। যে ব্যক্তি সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে, সেই সাফল্য লাভ করে। সময়কে যথাযথভাবে ব্যবহার করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। একসময়ের কাজ অন্য সময় করলে কখনো সাফল্য লাভ করা যায় না বরং ক্ষতি হয়। সময়ের মূল্য অপরিসীম।
অনেক সময় সময় যেতেই চায়না ।যেমন,রোজার মাসে ইফতারের পূর্ব মূহুর্তে। আবার কারো জন্য অপেক্ষা করতে বলা হলে সময় যেতেই চায়না। এমনকি পড়তে বসলে তো সময় যেতেই চায়না। পড়লাম ১০ মিনিট মনে হয় এক ঘন্টা পড়ে ফেলেছি । কিন্তু আসলে কিন্তু আমরা দশ মিনিটেই পড়ে থাকি। সময় নিজের গতিতেই চলমান।
আবার পরীক্ষার সময় লিখতে লিখতে সময় খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। এমনকি মোবাইল চালানোর সময়।এমনকি আমরা যখন কোন একটি ছবি দেখতে বসি ,তখন যে কিভাবে সময় চলে যায় আমরা সেটা বুঝতেই পারিনা। এছাড়া আরো অনেক বাস্তব উদাহরণ লক্ষ্য করা যায় আমাদের জীবনে। তবে কথা ওইটাই সময় নিজের গতিতেই চলমান
বর্তমান রমজান মাস চলছে। সত্যি বলতে সময় গুলো যে কিভাবে চলে যাচ্ছে, বুঝাতে পারব না। বিশেষ করে এই শেষ দশক। একজন প্রকৃত মুসলিম যে জীবনকে ইসলামের জন্য নিয়োজিত করেছে তার কাছে সময়টা কম। আমার একটি মাদ্রাসা পড়ুয়া বন্ধু ছিল,সে বলত একদিনে ২৮ কিংবা ৩০ ঘন্টা হলে ভালো হতো। আমি তখন তার কথাটাকে হাস্য রসাত্মক ভাবে উড়িয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু বর্তমানে আমি সেটা উপলব্ধি করছি।
আমি সকাল ১০ ঘটিকায় ঘুম থেকে উঠি। অন্যদের তুলনায় একটু বেশি ঘুমিয়ে থাকি। এরপর ফ্রেশ হয়ে পারিবারিক কিছু ছোটখাটো কাজ করতেই দেখি বারোটা বেজে গেছে। এরপর 12:30 এ গোসল। এরপর যোহরের নামাজে যাই। নামাজ পড়ে এসে আমি কিছুক্ষণ কোরআন তেলাওয়াত করি তিনটা পর্যন্ত। আমার তিলাওয়াত বেশি শুদ্ধ না ,তবে আল্লাহ বলেন যে বেশি কষ্ট করে কোরআন তেলাওয়াত করে, সে বেশি সওয়াব পায়।তাই আমি কষ্ট করে হলেও পড়ার চেষ্টা করি,ইনশাআল্লাহ আল্লাহ আমাকে কবুল করবেন। যার ফলে আমার জীবনের সকল গুনাহ খাতা মাফ করে দিবেন। যেহেতু রমজানের সময় তাই বিকালে একটু ক্লান্তি বোধ হয় তাই বিশ্রাম দরকার। অনেক সময় আমি ঘুমাই, অনেক সময় ঘুমানো হয় না। কারণ অনলাইনে ছোটখাটো কিছু কাজ পরে থাকে। তো দেখতে দেখতে পাঁচ টা বেজে গেল এরপর আসরের নামাজে গেলাম। নামাজ পড়ে বাসায় আসি পাঁচটা চল্লিশে । এরপর যে কিভাবে এগারোটা বেজে যায় বুঝতে পারিনা।
অনেকে হাস্যরসাত্মক ভাবে ফেসবুকে বলে থাকে যে "স্টার্টেড জব এট ইফতার বানানো"।জানি না তারা এটা মিথ্যা কথা বলে কিংবা মানুষকে দেখানোর জন্য বলে কিনা। আমার ক্ষেত্রে এটা একেবারে বাস্তব এবং সত্য। আম্মু ভাজাপোড়া রান্না করে ,এ ছাড়া বাকি সব কাজ আমাকেই করতে হয়।তো ফল কাটা থেকে শুরু করে,মুড়ি মাখানো, এমনকি পানি তোলা সব আমি করি এভাবে আমার ইফতারের সময় হয়ে যায়। আব্বুকে কাজ করতে দেইনা আব্বুর একটু বয়স হয়েছে তাই। আর আম্মুও ভাজাপোড়া করতেই সময় চলে যায়। এর মধ্যে আমি দুই দিন আসরের নামাজ পড়ে হাঁটতে গিয়েছিলাম ,তখন এসে দেখি আব্বু সবকিছু করে রেখেছিল। তো যাই হোক এরপর মাগরিবের নামাজ পড়ে বাসায় ফিরি সাতটায়। এরপর কিছুক্ষন পরিবারের সাথে কথা বলি, অবশিষ্ট ইফতার সমূহ খায়। দেখতে দেখতে বেজে গেল 8:15। এশার নামাজ এবং তারাবির সময়। আমাদের মসজিদে অন্যান্য মসজিদের তুলনায়, একটু তাড়াতাড়ি খতমে তারাবী দেয়া হয়। তারাবি শেষ করে বাসায় ফিরি দশটায়। এরপর রাতের খাবার খাই। এরপর খাবার শেষ করে নিজের রুমে গিয়ে একটু শুইতে পারি ১০.৪০ এ। পড়াশুনা একবারে করি না বললেই চলে এ রমজান মাসে। পড়াশুনা বাপের বাড়ি চলে গেছে বলা যায়। তবে সকাল 10 টা থেকে 12 টা অনেক সময় একটু পড়াশোনা করার চেষ্টা করি। এছাড়া অনলাইনে তো বিভিন্ন কাজ থেকেই থাকে ছোটখাটো, সেগুলো করতে হয়। এভাবে আমার প্রতিটা দিন চলে যাচ্ছে।
তবে আফসোস আর মাত্র 5 দিন রয়েছে রমজান মাসের। এ মাস অনেক ফজিলতপূর্ণ। আমাদের নবী শেষ দশক আসলে অন্যান্য সময়ের তুলনায় অধিক ইবাদত করতেন।
তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি যখন প্রথম সিঁড়িতে পা রাখি তখন হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম উপস্থিত হয়ে বললেন, যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েছে কিন্তু নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারেনি সে ধ্বংস হোক। (সহিহ মুসলিম-৬৬৭৫)
আমাদের উচিত এই পাঁচটি দিনকে যথাযথভাবে ব্যবহার করা। জানিনা আগামী রমজান পাব কিনা, জানিনা নিজের গুনাহ মাফ করাতে পেরেছে কিনা। জানি না আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করেছেন কিনা। এছাড়া এসে দশকের মধ্যে রয়েছে শবে কদর ,যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।আমাদের উচিত মহান আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করে সময়টাকে যথাযথভাবে ব্যবহার করা। বর্তমানে প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে আমরা সহজেই ইসলামিক পড়াশুনা, হাদিস ,আয়াতসমূহ জানতে পারি ইউটিউব কিংবা ফেসবুকেই। আশা করি আমরা এগুলোর সঠিক ব্যবহার করে নিজের জীবনকে ইসলামের পথে পরিচালনা করব। আল্লাহ আমাদের সকলকে কবুল করুক এবং ক্ষমা করুক (আমিন)।
119
8
26.65
8 Replies