ব্যাচেলরদের জীবনে সোনার হরিণ

By @minhaz0073/15/2022hive-190212

সোনার হরিণ বলতে দুর্লভ বস্তু কে বোঝায়। সাধারণ অর্থে আমরা সোনার হরিণ বলতে বাংলাদেশে সরকারি চাকরি কে বুঝিয়ে থাকি। তবে শুধু সরকারি চাকরি নয় এর পাশাপাশি আরও কিছু দুর্লভ বস্তু রয়েছে যেগুলো খুঁজে পাওয়া কষ্টকর। একেক জন একেক রকম সমস্যায় আছে তারা তাদের ওই না পাওয়া বস্তুটিকে সোনার হরিণ মনে করে। বর্তমানে আমি যে পরিস্থিতিতে রয়েছি সোনার হরিণ বলতে আমি কাজের বুয়াকে বুঝে থাকি।

ঢাকা শহরে ব্যাচেলরদের রান্না করে দেয় কাজের বুয়া। কাজের বুয়া ছাড়া রান্না অসম্ভব।মাসে সর্বোচ্চ দুই থেকে তিনদিন নিজে রান্না করতে ইচ্ছা করে, বাকি 27-28 দিন কি করবে ব্যাচেলররা। তাদের তো আর কোনো পথ নেই। তাই বুয়া নিতেই হয়। একেকজন বুয়াকে একেক নামে সম্বোধন করে। কেউ বলে খালা ,কেউ বলে আপা ,কেউ বলে আন্টি ,কেউ বলে ভাবি ইত্যাদি।

images (8).jpeg
Source

এখানে কাজের বুয়া লিফলেট লাগিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না। আবার তাদের নানান চাহিদা।তাদেরকে নানান রকম সুযোগ-সুবিধা বলে দিতে হয়। শুধু রান্নাই করবে, ঘর ঝাড়ু দেওয়া কাপড় ধোয়ায় তো অসম্ভব বিষয়।

আবার এই সোনার হরিণের নানান চাহিদা। প্রথমত নিজের পরিবারের মতো রান্না তো হয় ই না ,তারপরও তাদেরকে আমরা কিছু বলতে পারিনা। কিছু বলতে গেলেই নানান সমস্যা। প্রথমত আসি তাদের মাসিক বেতন নিয়ে। সাধারণত তারা মানুষের উপর ভিত্তি করে তিন হাজার থেকে ছয় হাজার টাকা নিয়ে থাকে। যেখানে লোকজন কম থাকে তাদের জন্য মাথাপিছু 500 টাকা পড়ে যায়। আবার যেখানে লোকজন বেশি থাকে তাদের জন্য মাথাপিছু 300 থেকে 400 টাকার মধ্যে হয়ে যায়। ঢাকা শহরে সাধারণত বুয়ারা দুইবেলা আসে। একবেলা সকালে কারণ অনেক ব্যাচেলর অফিস করেন তাদের জন্য। আরেকবার বিকেলে রাতের খাবারের জন্য। সকালে এসেই সকাল এবং দুপুরের রান্না তারা করে দিয়ে যায়।

এবার আসি তাদের রান্নার কথায়। সত্যি বলতে একেবারে খারাপ নয়, আলহামদুলিল্লাহ। তবে সবার রান্নার হাত এক নয়। একজন লবণ বেশি দেয়, একজন তেল বেশি দেয়, একজন লবন ই দেয়না, আবার অনেকে বুঝেনা রান্না। আমরা বলি ২জনের রান্না করতে ,তারা করে ৪ জনের। আমরা বলি ৪ জন্য রান্না করতে তারা করে ২ জনের। এভাবেই চলছে সোনার হরিণের খোঁজা।

ম্যাডাম একদিন আসেন, তিনদিন আসেন না। ম্যাডাম বলতে খালাকে বোঝাচ্ছি। উনি একবার বাড়ি গেলে আসেই না। কেউ মারা গেলে তার খবর পাইনা। কেউ অসুস্থ হলে উনার খবর নাই। কিন্তু মাইনের সময় দুই তারিখের মধ্যে টাকাটা দিয়ে দিতে হবে । না হলে খাবারের মান খুবই খারাপ হয়ে যায়। এভাবেই চলছে ম্যাডাম একদিন আসেন , তিনদিন আসেন না।

এছাড়া নানান সমস্যা তো লেগেই আছে। আজ এটা নেই, কাল ওটা নেই ,সকালে ওটা নেই ,বিকেলে ওটা নেই কি আর বলবো। আবার অনেকে নিজের ছেলে-মেয়ে, নাতি- নাতনীদের নিয়ে আসে। কি আর বলব ব্যাচেলার বাসাটা হয়ে যায় একটি পরিবার।

আবার আসি যদি কখনো খালার সাথে দুর্ব্যবহার বা মনোমালিন্য হয়ে যায়, তাহলে সে রাতে আর খাওয়া তো নাই ই। খাওয়া জুটলেও লবণ নেই। আবার লবণ বেশি। আবার ভাত নাই। আবার ডাল নাই ইত্যাদি।

IMG_20220315_222800.jpg
Source

এবার আসি আমার প্রত্যক্ষ করা খালা সমাচার নিয়ে। কেনই ই বা আমি এটাকে সোনার হরিণ বললাম।
কোনোভাবেই আমাদের চারজনের জন্য খালা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। যখন পেলাম তখন টাকার অংকটা মিলল না। আবার যখন মিলল তখন আমাদের রুমের একজন বলল আমি খাব না। গত ছয় মাসে আমরা তিনজন খালা পরিবর্তন করেছি। প্রথমজনের একটু সমস্যা ছিল এজন্য তাকে আমরা বিদায় করেছিলাম। দ্বিতীয়জন রান্না বুঝতো না, রান্না ভালো করতো না তার জন্য বিদায় করেছিলাম।তৃতীয়জন অন্য একটা ভালো অফার পাওয়ায় আমাদের কাজটা ছেড়ে দিয়ে গিয়েছিল আমাদেরকে মাঝপথে রেখে। পরিশেষে বর্তমানে চতুর্থজন চলছে। মহান আল্লাহই জানে তিনি কতদিন থাকবেন। আমরা তাকে কোনরকম চাপ দিচ্ছি না। উনি আসতেছেন রান্না করতেছেন, খেতে পারলে খাচ্ছি ,না পারলে নাই। রান্না হলে হলো না হলে নাই। আবার উনি নিয়ে আসে ওনার ছেলেকে। তারপরও আমরা তাকে সহ্য করতেছি। সহ্য ই বলব কারণ আগে আমাদের সাহস ছিল এটা গেলে আরেকটা আসবে। কিন্তু এখন সামনে রমজান মাসকে রেখে আমরা তাকে কিছু বলছি না। শুধু অপেক্ষা করি কবে কোন আত্মীয়-স্বজন আমাদের ডাকবে। কবে ভালো খাবার খাব।

ঢাকা শহরের প্রায় প্রতিটি ব্যাচেলরের জীবনে এরকম ঘটনা ঘটেছে। কেউ নিজ থেকে বিদায় করেছে ,আবার কেউ নিজে রান্না করে খাচ্ছে ,নানান বিষয় । সবদিক মিলিয়ে এটাই আমাদের ব্যাচেলারদের জীবন।

আমাদের ব্যাচেলরদের কাছে সোনার হরিণ এই কাজের বুয়াই।

ধন্যবাদ সবাইকে আশা করি আপনারা আমার ব্লগটি পড়বেন।

150

comments