৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় এই দেশের মানুষের মাঝে কী ধরনের অনূভূতি কাজ করেছিল আমি সেটা মাঝে মাঝে
চিন্তা করি । সেটি নিশ্চয়ই ছিল আস্থিরতার সময় - যে ভাষায় আমরা কথা বলি সেই ভাষাকে গলা চিপে কেউ মেরে ফেলবে
তা কি করে সম্ভব । কিন্তু এখন আমরা জানি তা সম্ভব হয় নি ।আমরা শুধু একটি ভাষাই পেয়েছি তাই নয় তার সাথে সাথে
একটি দেশ ও পেয়েছি । ৫২ সালের এই মানুষ সেটা জানত না তাই তাদের মধ্যে এক ধরনের উব্দেগ কাজ করত তা এখন
তা এই সময় অনুভব করা কঠিন।আমাদের মুক্তিযুদ্ধের জন্য সেটা সত্যি- আমরা এখন জানি কিন্তু ৭১ এর আগে তা কেউ
জানত না । যারা যুদ্ধে গিয়েছিল তারা কেঊ নয় মাসের জন্য যায় নাই বরং গিয়েছিল সারা জীবনের জন্য। তারা কেউ বুঝতেই
পারে নাই যে তাদের কেউ কেউ জীবিত ফিরে আসতে পারবে ।তাদের কাছে সেটি ছিল আবার জীবন ফিরে পাওয়ার মত।
মাদের কাছে ৫২ ভাষা আন্দোলন এখন সূদূর অতীতের মত।আমরা যে শহীদ মিনার টি তৈরি করেছি তা
আমাদের খুব কাছের একটা জিনিষ।। যখন কোন প্রতিবাদের করতে হয়েছে আমরা সেই শহীদ মিনারে গিয়ে জড় হয়েছি।
এই রকম কত প্রতিবাদ কত অনশন হয়েছে এই শহীদ মিনারের সিড়িতে তা কি কেও মনে রেখেছে বা তার কোন হিসাব রেখেছে
কতই না সভা,নাটক,কেও মারা গেলে তার তার শোকসভা।শেষ বারের মত সেই প্রিয় মানুষটির মুখ দেখার জন্য এই শহীদ মিনারে হাতে ফুল নিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা দেখানর জন্য আমরা সমবেত হয়েছি তার কোন সীমানা নেই। শুধু কালের সাক্ষী
হিসেবে রয়ে গেছে সেই শহীদ মিনার আর সেই সিড়ি গুলো। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা এই শহীদ
মিনারটিকে ভেঙ্গে ফেলেছিল কিন্তু তারা এতটাই র্নিবোধ যে তারা এটা বুঝতে পারে নি যে আসল শহীদ মিনার আমাদের
আমাদের মনের ভিতর আছে ইট ,বালু ,সিমেন্ট দিয়ে আমরা তার একটা রুপ দিয়েছি মাত্র।আমাদের মনের শহীদের প্রতি গভীর
ভালবাসাই হল আসল শহীদ মিনার ।তা না যায় ভাঙ্গা না জায় মুছে ফেলা তার আছে অমরত্ব বর।
ভাষা আন্দোলন্টি অনেক আগের ঘটনা হলেও সেটি এখনো আমাদের খুব কাছাকাছি একটা বিষয়।সবাই সেটা জানে।তারা যে কেউ
এটা ব্যবহার করতে চায় নি তাও না। দেশের সাধারান মানুষের কাছে গোলাম আযমকে ভাষা সৈনিক হিসেবে দাড় করানোর অনেক চেষ্টা করা হয়েছিল
কিন্তু তাতে খুব একটা কাজ হয়েছে বলে মনে হয় না। একজন ভাষা সৈনিক শুধু তার ভাষা কে ভালবাসে কিন্তু
সেই সেই ভাষায় কথা বলে যেই মানুষগুলো তাদের ধরে ধরে জবাই করবে সেটা ত হতে পারে না।বাংলাদেশত
আলাদা কোন ব্যাপার না। ৫২র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গান একুশে ফেব্রুয়ারি গান,
স্বাধীন বাংলাদেশ র্পযন্ত আমরা অনেক কিছু পেয়েছি আর পাচ্ছি । এমনকি জোট সরকারের গলাটিপে হত্যা করার
আগ র্পযন্ত টিকে থাকা "একুশে টিভি" তাদের নামটিও এখান থেকে নেওয়া হয়েছিল।