বয়স তখন ১৫/১৬

সবে মাত্র ssc পরিক্ষা দিয়েছি, আমি আগে বলে রাখি আমার সবচেয়ে ঘনিষ্ট বন্ধুর নাম মরিয়ম। আমার বাসা থেকে তার বাসায় যেতে সময় লাগে ৭/৮ মিনিট পায়ে হেটে। প্রতিবেশি বলতে পারেন তাই সবকিছু একসঙ্গে করে থাকি। যেমন স্কুলে যাওয়া, প্রাইভেটে যাওয়া, এমনকি কেউ কারও আত্মীয়র বাসায় গেলেও আমরা পিতামাতার অনুমতি নিয়ে একসাথে যাই। একদিন আমরা যাওয়ার প্লান করলাম আমার ফুফুর বাসায়। এটা আমাদের গ্রাম থেকে পায়ে হেটে ৩০/৪০ মিনিট লাগে। পাশাপাশি গ্রাম বলতে পারেন। আমরা রওয়ানা দেই। বিকেল ঠিক ৪-৩০ মিনিটে। পৌছে যাই ঠিক ৫.১০ মিনিটে। আমার ফুফুর বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্য হলো, তার বাসার পাশে পুকুর আছে পুকুরে মাছ চাষ করে থাকে। আমারা যাচ্ছি মাছ নেওয়ার উদ্দেশ্যে। আসলে অনেক দিন যাবত আমার ফুফুতো ভাই বোনদের সাথে দেখা সাক্ষাত হয়না, তাই মনে করলাম আমি মরিয়ম কে নিয়ে যাই দেখা করেও আসি মাছও নিয়ে আসি। আসলে যেদিন আমরা যাই সেই দিন পুকুরে জাল দিয়ে মাছ উঠানো হয়েছিলো। বিক্রি করার জন্য না মাঝে মধ্যে ফুফু মাছ ওঠানোর ব্যাবস্থা করে এবং মাছগুলি সমস্ত আত্মীয় স্বজনদের দেওয়া হয়। এটা ফুফুর অনেক আগের অভ্যাস আমার বাবা না থাকায় আমি মরিয়মকে সাথে নিয়ে যাই। ফুফুর বাসায় পৌছানোর পর দেখি পুকুরে ফুফা আরও লোক জন মাছ মারতিছে। আর ফুফু পুকুর পাড়ে দাড়িয়ে তদারকি করছেন। আমাকে দেখে ফুফু বলল,
কেমন আছিস মা?
আমি বললাম ভালো আছি।
তুমি কেমন আছো?
আমার কথার উত্তর না দিয়ে ফুফু ফুফাকে বলল তোমাদের আর কতখন সময় লাগবে? ফুফা বলল কেন? ফুফু বলল আয়শা এসেছে এদের মাছ দিতে হবে ওদের আবার বাসায় ফিরতে হবে না। ফুফা উত্তর না দিয়ে এমন ভাব করল মনে হয় আরও সময় লাগবে। ফুফু বলল ভাত খাবি চল, মরিয়ম বলল ফুফি আমরা খেয়ে এসেছি এখন ভাত খাওয়ার সময়। আমি বললাম না ফুফু ভাত খাবনা বাসার ভেতরে চলো রাকিব, আর ঋতুর সঙ্গে দেখা করি। আমার ফুফাত ভাই ও বোনের নাম রাকিব ও ঋতু। রাকিব বড় ঋতু ছোট কিন্তু আমার চেয়ে বড় না। রাকিব লেখাপড়া করছে ক্লাস সেভেন এ আর ঋতু কেবল নার্সারীতে পড়ে। তাদের সাথে কথা বলতে বলতে ফুফু বিস্কিট আর চানাচুর নিয়ে আসলো। চানাচুরগুলো দেখে হচ্ছে ঝাল না মিষ্টি চানাচুর আমি মরিয়ম রাকিব আর ঋতু মিলে বিস্কিট আর চানাচুর শেষ করলাম। তারপর আমার কম্পিউটারে গেমস খেললাম এর মধ্যে ফুফু মাছ গুলো একটা ব্যাগে ভরে আমাকে ডাক দিলো। আমি গেমস থেকে উঠে ফুফুর কাছে গেলাম। ফুফু বলল এখন সন্ধার আযান পড়বে। তুমরা এমন সময় আসলে আরও আগে আসতে পারনি। তাহলে বিকেল বিকেলে আবার ফিরে যেতে। আমি বললাম আরও আগে আসলে মাছ না নিয়ে ফিরতে হতো। মাছ ধরাতো কেবলমাত্র শেষ হলো। ফুফু বলল সেটাও ঠিক বলেছো। আমরা সবার থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই। একটি আগেই আযান শেষ হয়েছে চারিদিকে আবছা আবছা অন্ধকার হয়ে আসছে। আমরা যে রাস্তা দিয়ে হাটবো সে রাস্তায় ইলেকট্রিক লাইট নেই। গ্রামের রাস্তা ঘাট, সন্ধার পর সবাই কাজকর্ম শেষ করে বাসায় ফিরে। আমরা কিছুদুর যাওয়ার পর একটা লোকের সাথে দেখা হয় সাদা পান্জাবি ও সাদা পায়জামা পড়ে আসতিছে আর আমরা যাচ্ছি আস্তে আস্তে যখন আমরা তার কাছে গেলাম। লোকটির মুখে সাদা দাড়ি পান চিবুচ্ছে মনে হয়। তিনি বলল সন্ধার দিকে কোথাই যাও। গ্রামের রাস্তাঘাট ভালা না তোমরা মাইয়া মানুষ রাতবিরাতে বাসা থাইকা বের হওন ঠিক না। তার ভাষা শুনে মনে হলো তিনি অন্য কোন জেলার ভাষা বলছেন কিন্তু আমরা বুঝতে পারলাম কিছু বললাম না, আমরা আবার হাটতে থাকলাম। ৫ মিনিট পর হঠাত তিনি আবার আবার আমাদের সামনে পড়লেন ঠিক অবিকল যেমন পান্জাবি পায়জামা পড়া মুখে দাড়ি পান চিবুচ্ছে। আমরা একই লোককে বার বার দেখে ভয় পেলাম রাস্তার দুপাশে জমি। এর আগে যেখানে লোকটিকে দেখেছি সেখানেও দুপাশে জমি ছিলো। মানে লোকটি ভেতর রাস্তা দিয়ে ঘুরে আবার আমাদের সামনে আসতে পারবেনা কোন চান্স নেই। আমরা খুব ভয় করছে ভয়ে আমার হাত পা শিতল হয়ে আসছে। মরিয়মের দিকে তাকিয়ে দেখি মরিয়ম কাপছে। লোকটি আমাদের সামনে এসে ঠিক আগের মতোই করে বলল সন্ধার দিকে কোথায় যাও। একি আমি কি স্বপ্ন দেখছি? আমি কি ঘুমের মধ্যে আছি, যে একটু পরে মা এসে বলবে আয়েশা ঘুম থেকে ওঠ পড়তে বসবে। না আমি ঘুমের মধ্যে নেই কারণ আমি পাকা ধানের গন্ধ পাচ্ছি। স্বপ্নে গন্ধ পাওয়া যায় না। আমরা প্রায় অর্ধেক রাস্তা পার হয়ে এসেছি। যদি দৌড় দেই কোন দিকে দিব তা ভাবতে না ভাবতে মরিয়ম আমার হাত ধরে আমাদের গ্রামের দিকে দৌর দিল। এতে আমার স্যান্ডেল ছিড়ে গেল আমি স্যান্ডেল ছেড়েই দৌড় দিলাম। দৌড়ানোর সময় আমার মনে হলো আমি লোকটির দিকে একবার তাকাই। আমি পিছন ফিরে তাকালাম ঠিক কিছুদুর যাওয়ার পর। কিন্তু তাকিয়ে আমি লোকটিকে দেখতে পেলাম না শুধু দেখলাম মাছের ব্যাগ পড়ে আছে। মরিয়মেরর হাতে ছিলো মাছের ব্যাগ বোধহয় তাড়াতাড়ি দৌড়ানোর জন্য সে ব্যাগ ফেলে দিয়েছি। কিংবা এমনও হতে পারে যে ভয়ে সে মাছের ব্যাগ ফেলেছে।
আমরা দৌড়াতে দৌড়াতে আমার বাসায় এসে পৌছায় এবং মরিয়ম বসে পড়ে বাসায় সবাইকে বিস্তারিত বলার পর। আমার বাবা আমার মাকে অনেক বকাবকি করে আমাকে ফুপুর বাসায় যাওয়ার কথা শুনে। আমি মরিয়মকে বললাম আজকে আমার বাসায় থেকে যা, কিন্তু মরিয়ম বলল যদি বাসায় না ফিরি তাহলে আব্বু খুজতে আসবে। আমি বললাম ঠিক আছে আমি আর আব্বু দুজনে গিয়ে তোকে বাসায় রেখে আসব। মরিয়মকে বাসায় কিছু বলতে নিষেধ করলাম। কারণ এর পরে আমাদের একা কোথাও যেতে দিবে না তাই।
আমি আর বাবা মরিয়মকে বাসায় পৌছো দিয়ে আসলাম। এরপর কখন কখন সেই কথা মনে করে আমি আর মরিয়ম, অনেক হাসাহাসি করি কিন্তু হাসিটার মধ্যেও যেন গভির ভয় লুকিয়ে থাকে। এই ঘটনার সমাধান আমরা করতে পারিনি বা কোন দিন অন্য কারও সাথে শেয়ার করিনি।
আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম যদি এর ব্যাখ্যা আপনাদের কাছে থাকে অবশ্যই জানাবেন ধন্যবাদ।
এর আগে আমি আপনাদের সাথে একটি গল্প শেয়ার করেছি। এবং সেটি কপি পেষ্ট ছিলো। তাই আমাকে ডাউনভোট করা হয়েছে। এজন্য আমি আপনাদের কাছে দু:খিত। আমার ভুলটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখা হোক এবং আমাকে পুনরায় ব্লগগ লেখার সুযোগ দেওয়া হোক। আমি bd community র এ্যাডমিন @bdvoter এর মনোযোগ আকর্ষন করছি। আর সকল বন্ধুদের সাহায্য কামনা করছি।
free Image source - pexels.com