ব্যর্থতাকে ভুলে কিভাবে সফলতা অর্জন করা যায় (মি.বিন বায়োগ্রাফি)

By @misuk11/12/2018biography

মিস্টার বিনকে তো আপনি নিশ্চয়ই চেনেন কিন্তু এটা কি জানেন এই যে লোকটা অন স্ক্রিনে ভীষনই একজন হাস্যকর বোকা লোকের অভিনয় করেন তিনি রিয়েল লাইফে কিন্তু একেবারেই ওরকম না বরং তার উল্টোটা বলা যেতে পারে৷

তিনি নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা একজন গ্র্যাজুয়েট৷ আপনি হয়তো এটাও খেয়াল করে থাকবেন মিস্টার বিন সিরিজে অভিনয় করার সময় তিনি কিন্তু একটি ওয়ার্ড সঠিকভাবে কখনো উচ্চারণ করেননি৷

এর অন্যতম একটি কারণ তিনি স্পিকিং ডিজঅর্ডার অর্থাৎ বাংলায় যেটাকে আমরা বলি তোতলামি রোগের একজন শিকার৷ স্পিকিং ডিজঅর্ডার থাকা সত্ত্বেও এতো ভালো একটা ইউনিভার্সিটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পরও কেন তিনি কমিডিয়ান হওয়ার ক্যারিয়ার কে বেছে নিলেন এবং কিভাবে নিজের জীবনে সবথেকে বড় সমস্যা এই স্পিকিং ডিজঅর্ডারকে তিনি তার জীবনের সবথেকে বড় সুযোগে পরিণত করলেন সেটাই আজ এই আর্টিকেলে আমি আপনার সঙ্গে শেয়ার করব৷


source
রোহান এ্যাডকিনসন যাকে আমরা মি বিন হিসেবে চিনি তিনি 1955 সালের 6 জানুয়ারি ইংল্যান্ডের শহরে এক গরীব মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন৷ বাবা ছিলেন একজন চাষী এবং তার মা ছিলেন একজন গৃহবধু ছোটবেলা থেকেই তিনি বেশ হাসিখুশি ছিলেন এবং লোকজনকে হাসাতে বেশ ভালবাসতেন৷ মুখে বিভিন্ন অদ্ভুত অদ্ভুত রূপ করে তিনি তার বন্ধুদেরকে হাসাতেন৷ ছোট থেকে লোকজনকে এন্টারটেইন করতে তার বেশ ভালো লাগত৷ এসবের পাশাপাশি পড়াশোনাও তিনি বেশ মেধাবী ছাত্র ছিলেন তাই নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনীরিংএ গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেন৷ আর তারপর অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির কুইন্স কলেজ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রিও কমপ্লিট করেন৷

কলেজে থাকা কালিন পড়াশোনার পাশাপাশি ছোট খাটো নাটকীয় চরিত্রে তিনি অভিনয় করতে শুরু করেন এই সময় তিনি নাটকের স্ক্রিপ্ট লিখতে শুরু করেন৷ এবং সেই নাটকের স্কেচ করার সময় এগুলো দেখতে কেমন হবে তাদের হাফা ভাব কেমন হবে এগুলো এডিট করার সময় তিনি উপলব্ধি করেন যে ভিজুয়াল কমেডিতে তিনি বেশ পারদর্শী এবং তার মধ্যে একটা গভীর আত্মবিশ্বাস জন্ম নিতে শুরু করে যে ভিজুয়াল কমিডির জগতে তিনি চেষ্টা করলে একটা বড় কিছু করার ক্ষমতা রাখেন৷ আর সেই মতই তিনি কলেজে থাকাকালীন বিভিন্ন প্লে একটে পার্টিসিপেট করতে থাকেন৷ পার্টিসিপেট করতে থাকলেও তা স্পিকিং ডিজঅর্ডারের জন্য তিনি ভালভাবে পারফর্ম করতে না পারায় প্রায়ই বাদ চলে যেতেন৷ এরপরে ও সাহস করে তিনি বিভিন্ন টিভি শোতে পার্টিসিপেট এর জন্য এপ্লাই করলেও তার তোতলামি রোগের জন্য প্রায়ই তাকে রিজেক্ট করে দেওয়া হয়৷ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়লেও তিনি তার নিজের ট্যালেন্ট এর উপর কখনো বিশ্বাস হারাননি৷


source
তিনি দিনের পর দিন একা একা বসে নিজের প্রবলেম গুলো কে খুঁজে বার করতে থাকেন৷ এবং এভাবে খুঁজতে খুঁজতে তিনি লক্ষ্য করেন যে তিনি যখন কোন একটি চরিত্রে অভিনয় করছেন তখন তিনি কথা বলতে পারছেন কিন্তু অন্য সময় নরমালি কথা বলতে গেলে পুরো কথা বলতে পারছেন না৷ ফলে তিনি কিছুটা কনফিডেন্স ফিরে পান৷ আর তাই হার মেনে না নিয়ে তিনি আবার বিভিন্ন টিভি শোতে অভিনয় করার সুযোগ পাওয়ার জন্য এপ্লাই করতে শুরু করেন৷ কিন্তু এবার সুন্দর চেহারা এবং হিরোইক বডি না থাকার কারণে তাকে আবার রিজেক্ট হতে হয়৷ কোন সাধারণ মানুষ বা বুদ্ধিমান লোক হলে তখন ভাবতো "পাগল নাকি দেখতে এরকম আবার স্পিকিং ডিজঅর্ডার রয়েছে কি দরকার এসব অভিনয় জগতে নিজের ক্যারিয়ার বানানোর চেষ্টা করা?  ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি রয়েছে একটা যেকোন জব করতে ঢুকে গেলেই তো হয়৷ কিন্তু রোয়ান অ্যাটকিনসন কোন সাধারণ মানুষ ছিলেন না৷ তিনি ছিলেন অসাধারণ মানুষ৷ আর গোটা বিশ্ব তখন না জানলেও তিনি নিজে খুব ভালো করে জানতেন৷ আর তাই নিজের প্যাসন কে ফলো করা থেকে তিনি কখনো পিছপা হননি৷ তিনি একটা জিনিস খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছিলেন যে তারে এ প্রবলেম এর জন্য এর পরেও তাকে সমস্ত টিভি শোগুলোতে থেকে রিজেক্টেড হতে হবে৷

তাই তিনি মাথা খাটাতে শুরু করেন কিভাবে তার লাইফের এই সব থেকে বড় সমস্যাটাকে তিনি সব থেকে বড়সুযোগে পরিণত করতে পারেন৷ আর ঠিক এই ভাবেই তৈরি হয় লেজেন্ডারি মিস্টার বিন ক্যারেক্টার টি৷ এই সময় অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে তার সাথে রাইটার রিচার্ড কার্টিসের আলাপ হয় এবং তার সাথে আলোচনা করে তারা দুজন মিলে বর্তমান মিস্টার বিন বিষয়টি শুরু করার পরিকল্পনা করেন৷ মজার বিষয় হলেও মিস্টার বিনের ক্যারেক্টার টির নাম প্রথমে মিস্টার হোয়াইট রাখা হয়েছিল৷ এরপর ডাইরেক্টর চরিত্রটির নাম কোন একটা শাক-সবজির নাম অনুযায়ী রাখার প্রস্তাব দেন এবং মিস্টার ক্লাউলি ফ্লাওয়ার নামটি সাজেস্ট করেন কিন্তু সবশেষে মিস্টার বিন নামটি সিলেক্ট করা হয়৷ 1987 সালে কানাডার মন্ট্রিয়াল শহরে জাস্ট ফর লাভ নামে একটি কমেডি ফেস্টিভালে তিনি একজন কমেডিয়ান হিসেবে পারফর্ম করতে যান৷


source
যখনি ফেস্টিভালের কো-অরডিনেটরা তাকে জিজ্ঞেস করেন যে তিনি কি পারফর্ম করতে চলেছেন? তিনি উত্তরে জানান যে তিনি ইংলিশে নয় সে ফ্রেন্সে কথা বলে পারফর্ম করবেন৷ যদিও তার পারফরমেন্সে কোন ফ্রেন্স ডায়লগ ছিল না৷ কিন্তু পরবর্তীকাতে জানা গিয়েছিল তার সেই স্টেজ পারফরম্যান্স টা ছিল মিস্টার বিনের নন স্পিকিং কারেক্টারের একটি টেস্ট পারফরমেন্স৷ যেখানে তিনি নিজে দেখতে চেয়েছিলেন তার কথা না বলা কামেডি পারফর্মেন্স বাইরে স্পেস এ কেমন রিএকশন পায়৷ এরপর 1990 সালের 25 জানুয়ারি মিস্টার বিন টিভি শোটি পাবলিশ হয় এবং সমস্ত মানুষের কাছে খুব কম সময়ের মধ্যেই খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে৷ এরপর তার অভিনীত মিস্টার বিন টিভি সিরিয়ালের টোটাল 15 টি সিরিজ পাবলিশ হয় এবং শুধু তার নিজের দেশেই নয় বাইরের বিভিন্ন দেশেও তার টিভি সিরিজগুলো ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে৷ এতগুলো টিভি শো থেকে রিজেকশন হওয়ার পরও তিনি হার মেনে নেন নি৷ নিজের ট্যালেন্ট এর উপর তার সম্পূর্ণ বিশ্বাস ছিল৷ তিনি তা স্পিকিং ডিজঅর্ডারের প্রবলেম টিকে হাতিয়ার বানিয়ে মিস্টার বিন ক্যারেক্টার টির মাধ্যমে গোটা বিশ্বকে প্রমাণ করে দেখিয়ে দিয়েছেন যে কিভাবে যেকোনো সমস্যাকে একটু মাথা খাটালেই নিজের সব থেকে বড় সুযোগে পরিণত করা যায়৷ সবশেষে ওনার বলা আমার পছন্দের একটি সেরা উক্তি দিয়ে আজকের লেখাটি শেষ করতে চাই,

To be a successful you don't need beautiful face and heroic body. what do you need is skillful mind and ability to perform.

অর্থাৎ জীবনে সফল হতে হলে সুন্দর মুখ এবং নায়কের মতো বডি থাকতে হবে না যেটা থাকতে হবে সেটা হল সুদক্ষ মন ও সেটাকে পরিচালনার জন্য সঠিক মানসিকতা৷


Posted from my blog with SteemPress : http://www.eccheblog.ooo/2018/11/%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a7%8b%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a6%bf

8

comments