পূর্ব বগুড়ার গাবতলী ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা এবার ভিন্নস্থানে স্বল্প পরিসরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের স্বেচ্ছাচারীতার কারণে মন্ডল পরিবারের জমির মালিকেরা এবার পোড়াদহ মেলার নির্ধারিত স্থানে আগেভাগেই বোরো ধানের চারা রোপন করায় সে স্থানে মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছেনা । এতে করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছেন মেলাপ্রেমী ও বিনোদন মনা মানুষসহ এলাকাবাসি। এদিকে প্রভাবশালী মহলটি গাবতলী দাঁড়াইল বাজার এলাকায় জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্টের জায়গায় এবং দূর্গাহাটা হাইস্কুল মাঠে অবৈধভাবে মেলা বসানো হয়েছে । এঘটনাতে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্য মি¯্র প্রতিক্রিয়ার সৃস্টি হয়েছে। এলাকাবাসী মনে করে জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্টের জায়গায় মেলার আয়োজন রহস্যজনক এবং উদ্দেশ্য প্রনোদিত ।
একাধিকসূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২’শ বছর আগে থেকে সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে গাবতলীর গোলাবাড়ী বন্দরের পূর্বধারে গাড়ীদহ নদীর পশ্চিমপার্শ্বে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে একদিনের জন্য মেলাটি হয়ে আসছে। আদালতের আদেশক্রমে মন্ডল পরিবারের ২২জন জমির মালিকদের যেকোন একজন মেলাটি পরিচালনার জন্য ইজারাদার হিসেবে স্থানীয় মহিষাবান ইউনিয়ন পরিষদ থেকে লাইসেন্স নবায়নের অনুমতি পেয়ে থাকেন।
এ লক্ষ্যে মেলাটি সুসম্পন্ন হওয়ার জন্য জোতদাররা প্রতিবছরই বোরো মৌসুমের আগে প্রায় শত বিঘা জমি ফাঁকা রেখে দেন এলাকাবাসী । কিন্তু বর্তমান ক্ষমতাসিন দলীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং দলীয় প্রভাব খাটিয়ে গতবছর মন্ডল পরিবারের জোতদারদেরকে বাদ দিয়ে তাঁর পছন্দের ব্যক্তির নামে লাইসেন্স প্রদান করে তিনি নিজেই মেলাটি পরিচালনা করে জমির মালিকদের বিভিন্নভাবেই ঠকিয়েছিলেন।
মূলত এ কারণেই এবছর মন্ডল পরিবারের লোকজন পোড়াদহ মেলার নির্ধারিত স্থানে তাদের জমিতে আগেভাগেই বোরো ধানের চারা রোপন করেছেন। জমির মালিকদের নামে লাইসেন্স না দেয়ায় এবং আশপাশে মেলা বসানোর মত আর কোন জমি না থাকায় ২’শ বছরের ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা এবার একেবারেই স্বল্প পরিসরে ভিন্নস্থানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে মেলাপ্রেমী ও বিনোদন মনা মানুষসহ এলাকাবাসির মধ্যে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, তিনি মন্ডল পরিবারের জমির মালিকদের কোনভাবেই তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্ছিত করেননি। উল্লেখ্য যে, প্রকাশ, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ মেলায় এসে ক্রয়-বিক্রয় করে। মেলা উপলক্ষে আশপাশের গ্রামের প্রতিটি বাড়ীতে আতœীয় স্বজন এসে সমবেত হয়। ঈদ বা কোন উৎসবে জামাই-মেয়েসহ অন্যান্য আতœীয় স্বজনদের দাওয়াত না দিলেও তেমন কোন সমস্যা নেই। তবে মেলা উপলক্ষে দাওয়াত দিতেই হবে, যা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। মেলাটি প্রতিবছরের বাংলা সনের মাঘ মাসের শেষ বুধবার অথবা ফাল্গুন মাসের প্রথম বুধবার হওয়ার কথা থাকলেও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের কারণে এবার তার ব্যতিক্রম ঘটিয়ে নির্ধারিত দিনের এক সপ্তাহ পর আজ বুধবার মেলাটি স্বল্প পরিসরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে এবার মেলার আয়োজকদের ছত্রছায়ায় জুয়ার আসর বসানোর চেষ্টা চলছে বলে একাধিসূত্র জানিয়েছেন। পোড়াদহ মেলা প্রসঙ্গে গাবতলী মডেল থানার ওসি খায়রুল বাসার বলেন, পোড়াদহ মেলাটি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্বারা কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। মেলায় নাগরদোলা, চরকি, সার্কাসসহ শিশুদের জন্য অন্যান্য খেলা চলবে। কিন্তু এ সবের আড়ালে কোন প্রকার জুয়া কিংবা অশ্লীল নাচ-গান করার চেষ্টা হলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন।এদিকে বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্টের নিজেস্ব জায়গায় এবার প্রভাবশালী মহলটি অবৈধভাবে মেলার একটি অংশের আয়োজন করায় গোটা এলাবাবাসীর মধ্য বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান হবার কারনে এবার সেখানে স্থানীয় চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা আমিনূল ইসলাম জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্টের নিজেস্ব জায়গায় লাগানো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী ।তারা মনে করেন এটিও কোন ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে । এলাকাবাসী বিষয়টি স্বাভাবিক ভাবে গ্রহন করতে পারছেননা ।
এ প্রসঙ্গে থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত )নুরুজ্জামান বলেন, জায়গাটি ফাঁকা থাকার কারণে স্থানীয়রা মেলাটি লাগিয়েছে। তবে আয়োজকদের বিষয়ে তিনি বিষদ জানাতে পারেননি ।