নারী নির্যাতন VSপুরুষ নির্যাতন।

By @mahmudsk7/18/2018steemtuner

নারী নির্যাতন বর্তমানে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর।যেটা বন্ধ করতে পুলিশ-প্রশাসন, জনগণ,এমনকি বিভিন্ন এনজিওরাও সক্রিয়।কিন্তু আসলে নারী নির্যাতন কত প্রকার?কি কি?কোন প্রকারের নির্যাতন কেন হচ্ছে?এ বিষয়ে কিছু কথা বলবো।

প্রথমত আমাদের জানা দরকার নারী নির্যাতন কি?

নারী নির্যাতন বলতে আমরা বুঝি নারীদেরকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করা।নারী নির্যাতন সাধারণত দুই প্রকার।

bmnmbnhjgjhgf.jpg
Source

(১)শারীরিক

(২)মানসিক

শারীরিক নির্যাতন

আজকের সমাজে শারীরিক নির্যাতন ভোগ করে এমন নারীর সংখ্যাই বেশি। এটা হয় সাধারণত গরীব ঘরের মেয়েদের।যাদের অর্থ সম্পাদক কম। যাদের মা-বাবা বিয়ের সময় কোন যৌতুক দিতে পারেনা বা খুব কষ্টে দিলেও সেটা বরপক্ষের পছন্দনীয় হয় না। যার কারণে তারা গৃহবধূকে নির্যাতন করে।
যেমন কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া আমার এলাকার একটি ঘটনা। মেয়েটির বাবা অনেক গরীব তার মেয়ের বিয়ের সময় সে তেমন কিছু দিতে পারেনি।তবে সে সাধ্যমতো সবটুকুই দিয়েছে।কিন্তু তা মনে হয় বরপক্ষের পছন্দ হয়নি।তাই বিয়ের 11 বছর পর গত এক সপ্তাহে স্বামী তাকে গলা টিপে হত্যা করেছে।এটা হল গৃহবধূ নির্যাতনের একটা কারণ।এক্ষেত্রে পুরুষরা দায়ী।

গৃহবধূ নির্যাতনের আরও একটা কারণ হতে পারে।যেটার জন্য মেয়েরা দায়ী। আর সেটা হলো মেয়েরা বর্তমানে স্বামীর সংসারে গিয়ে শশুর-শাশুড়ি ননদ-দেবরদের সহ্য করতে পারে না।তাদের কথা মেনে নিতে পারেনা। এই নিয়ে সংসারে ঝগড়া-ফাসাদ লেগে যায়। ফলশ্রুতিতে তারা নির্যাতিত হয়। এছাড়াও অবিবাহিতদেরও শারীরিক নির্যাতন করা হয়।সেটা বিভিন্ন কারণে হতে পারে যেমন কিছু বখাটে ছেলেদের কারণে মেয়েরা নির্যাতিত হয় আর সেটাকে আমরা ইভটিজিং বলে থাকি কিন্তু আমরা কখনো ভেবেছি কি? ইভটিজিং কেন হয়?না হয়তবা কখনো ভাবিনি।ইভটিজিং হওয়ার পেছনে মূল হল মেয়েরা।তারা নিজেদের লজ্জা স্থান সমূহ বের করে দিয়ে শর্ট জামা গায়ে দিয়ে জিন্সের প্যান্ট পরে ওড়না ছাড়াই রাস্তা দিয়ে হেটে যায়।এটা দেখেই ছেলেরা উত্তেজিত হয়ে তাদেরকে উত্যক্ত করতে শুরু করে। এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, আমরা নিজেদের পোষাক যেভাবেই পরিনা কেন তাতে ছেলেদের কি?এখানে আমি একটা উদাহরন নিয়ে আসলাম।

1497411512462.jpg
Source

আপনি যদি এক বাটি দুধ অথবা শুটকি মাছ আপনার ঘরের ডাইনিং টেবিলের উপর খোলা অবস্থায় রেখে দেন তাহলে কিন্তু বিড়াল সেটাই অবশ্যই মুখ দিবে। এটাই নিয়ম। ঠিক তেমনি ভাবে আপনি আপনার স্পর্শ কাতর স্থান গুলো বের করে রাস্তা দিয়ে হাঁটলে অবশ্যই পুরুষের নজর কাড়বে। যদি কোন পুরুষের নজর না কাড়ে আমি বলব সেটা পুরুষ না সেটা একটা হিজড়া।কারণ যার পুরুষত্ব আছে সে অবশ্যই সেটার দিকে তাকাবে। সেটা পেতে চাইলে।তবে হ্যা! কিছু মানুষ আছে যারা নিজেদের কাম প্রবৃত্তি কে দমন করতে সক্ষম হয়।এজন্য তারা ইভটিজিং এর মতো ঘৃণিত কাজ থেকে বের হয়ে আসতে পারে।তবে যারা নিজেদের প্রবৃত্তিকে দমন করতে সক্ষম না তাদেরকে আপনি কি করবেন?
এটার জন্য দায়ী আপনি নিজেই।

মানসিক নির্যাতন

এটা নিয়ে বহু তত্ত্বকথা আছে। তবে বর্তমানে যেটা হচ্ছে অবৈধ সম্পর্ক। অবৈধ প্রেমলীলা।যেটার কারণে মেয়েরা ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া নাই। ঠিক মত বন্ধুদের সাথে কথাও নাই। লেখাপড়ায় মনোযোগ নাই। সারাক্ষণ থাকে মনের মানুষের অপেক্ষায়।এক পর্যায়ে এসে তাদের স্বপ্নের রিলেশনটা যখন ভেঙ্গে যায়।সেটাকে মানসিক নির্যাতন নামে ডাকা হয় ।এটার জন্য আমি নারী-পুরুষ উভয়কেই দায়ী করব।

5241-3744.jpg
Source

পুরুষ নির্যাতন

''পুরুষ নির্যাতন'' শব্দটা শুনে ঘাবড়াবেন না।আপনাকে কেউ নির্যাতন করবে না। আমি এখন পুরুষ নির্যাতন সম্পর্কে বলব।আপনি ভাবছেন পুরুষ নির্যাতন! এটা আবার কি! এখনই আমি আপনাকে বলে দিচ্ছি। পুরুষ নির্যাতন কি?

নারী নির্যাতন নিয়ে হৈচৈ পড়ে যায়। নারীর অধিকার নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করে। কিন্তু কেউ কি কখনো ভাবে পুরুষের অধিকার নিয়ে? না কেউ ভাবে না। একজন পুরুষ সকালবেলায় বেরিয়ে যায় এবং সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে। সারাদিন মাঠে কাজ করে। সারাদিন সে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি করে।একটু জিড়ানোর সময়টুকুও তার নেই। যখনই সে জিড়ানোর জন্য একটু বসে তখন তার মাথায় ঘুরপাক খায় যে,আমার একজন স্ত্রী আছে,একটা সন্তান আছে, সংসারে আমার মা আছে,বোন আছে, ছোট ভাই আছে। তাদেরকে দুবেলা-দুমুঠো ভাত দেওয়ার জন্য আমাকে তো কষ্ট করতেই হবে।সে সারাদিন খেয়ে নাখেয়ে খাটুনি করে।যখনই খেতে যাই মুখে দেওয়ার সময় ভাবে আহা আমার সন্তান,আমার স্ত্রী,আমার মা,আমার বোন,তারা কি খেয়েছে? এরকম সাত-পাঁচ ভাবে। যদিও ক্ষুদার্ত তাড়নায় খায় কিন্তু তার মনে সব সময় তার পরিবার তার সংসার নিয়ে চলতে থাকে নানা ভাবনা।এভাবে সারা দিন কাটানোর পর সন্ধ্যায় যখন সে ঘরে ফিরে,তখন সে দেখে তার স্ত্রীর সঙ্গে তার মায়ের ঝগড়া,তার স্ত্রী তার বোনের সঙ্গে ঝগড়া অথবা তার বোন অন্য ছেলের সঙ্গে চলাফেরা করছে অবাধে মেলামেশা করছে ইত্যাদি। এই খবর যখন তার কানে পৌছায় তখন সে মানসিকভাবে এতটাই কষ্ট পাই এতটাই মানসিক চাপে ভোগে যেটা আমরা সাধারন মানুষ উপলব্ধি করতে পারব না। কিন্তু তারপরও সে নিজস্ব কাজে পরদিন আবার চলে যায়।
এটা হল মানসিক নির্যাতন।

শারীরিক নির্যাতন

শারীরিক নির্যাতন এটা পুরুষের ক্ষেত্রে খুবই কম হয়।কিন্তু তারপরও এমনও পুরুষ আছে যারা সারাদিন এত খাটাখাটুনির পরেও স্ত্রীর হাতে মার পর্যন্ত খায়। অর্থাৎ তার স্ত্রী তাকে আঘাত করতেও দ্বিধাবোধ করে না।এভাবেই চলছে আমাদের কলুষিত দুনিয়া।সমাজে যেমন নারীরা অবহেলিত হচ্ছে ।তেমন পুরুষেরাও অবহেলিত।এই অবহেলিত সমাজ থেকে আমাদের উদ্ধার পেতে হলে আমাদেরকে যেটা করতে হবে সেটা হল ইসলামের দিকে ফিরে আসতে হবে।

কারন ইসলাম যেমন নারীর অধিকার দিয়েছে তেমন পুরুষেরও অধিকার দিয়েছে।

31

comments