অসহায়ের কান্না কারো কানে যায়না।

By @mahmudsk7/26/2018steemtuner

-এই ময়না। এইদিকে আহ।
-কি কইতাছ কও। আমি কাজে আছি।
-আহ! এইদিকে আহনা! দেহ কি লইয়া আইছি।

-দেহি দেহি কি লইয়াআইছ?ওমা! একি এত্ত বড় মাছ!কই পাইছো?
-বাজার থেকে আহনের সময় দেহি ব্যাডারা ব্যস্তে আছে।হেইন্দা কিন্না আনছি।

-ওগো তুমি চেয়ারম্যান এর কাছে গেছিলা?
-হ গেছিলাম।
-বাবু কি কইলো?
-কইছে তাড়াতাড়ি আমরা পাকা ঘর পামু। হ্যার জন্য আমগো ২০ হাজার করে ট্যাহা দিতে অইবো।
-ওগো আমগো ঘরে বাদলা আইলে পানি পড়ে। রাইতে ঘুমাইতে পারিনা। কোন রহম মাইয়াডারে বুকের মধ্যে নিয়ে আমরা পানির মধ্যে থাহি। আমরা এখন কুড়ি হাজার টাহা কই পামু ?
-তাইতো আমিও ভাবতাছিরে সাথির মা! আমিও ভাবতাছি।

52fb904516effss100247.jpg

Source

-ও সাথির বাপ! কিছু ভাইবা পাইলা?
-না গো?
-আমি গেরামে গেছিলাম হগল্ডির কাছে হুনলাম হগোলে নাকি কাসেম মাতবারের কাছে যাইতেছে। টাহা আনবার লায়।
-মাতবর সাব কি কয় টাহা দিবো?
-হ দিব। কিন্তু হেতে নাকি কি দুইহান কাগজে সই লইতেছে। হ্যারপর টাহা দিতেছে।
-কিন্তু আমরা তো কেউ সই দিতে পারি না।
-হ্যাতে কি অইবো হে আঙ্গুলের মাথায় কি যেন মাহাইয়া হের ছাপ লইতেছে।
-হে কত টাহা দিতেছে জানো?
-আঠারো হাজার।
-হেইলে আর দুই হাজার টাহা কই পামু?
IMG_7603.gif

Source

-ওগো হুনো। আমি অনেক ভাবছি। তুমি আমার এই বালা জোড়া বেইচ্চা আর দুই হাজার টাহা জোগাড় কর। ওগো আমরা আর কতকাল এই ঝড়-বাদলার মধ্যে থাকমু। আমগো তো আল্লায় একখান মাইয়া দিছে। হেতেরেও তো বেচতে অইবো।
-ময়না তাই বলে আমগো বংশের সাক্ষি এই বালা বেচমু?
-ওগো! তাছাড়া তো কোন উপায় নেই আল্লায় আমগো অভাব দিছে। কিছু করার নেই।
-আচ্ছা আমি আগে মাতবরের কাছে যাই।

poto-1-8-768x557.jpg

Source

-সাথির বাপ আইছো! আমি তোমার অপেক্ষায় ছিলাম। গেরামের সবাই টাহা নিয়ে গেছে। আর তুমি এহনো আহ নাই? আমি ভাবলাম তোমার হয়তো এবার টাহা লাগবে না।
-না না মাতবর সাব! টাহা লাগবো। কিন্তু কাজের ব্যাস্ততায় আইতে দেরি অইছে। এই আর কি?
-কি কাজ করছো?
-এই বেশি কিছু না। ঘরহান দিয়া বাদলায় পানি পড়ে তাই একটু তালপাতা দিয়ে ছাইছি।
-ওও হুনো বেশি টাহা ঐ ঘরের পিছনে দিওনা। খুব তাড়াতাড়ি পাকা ঘর পাইবা। এই নাও এইহানে এহন সই দাওতো!
-না মাতবর সাব! আমি সই দিতে পারি না।
-ওও তাইলে হাতটা দাও।
-এই তোমার হাতের ছাপ নিলাম এর মানে জান?
-না মাতবর সাব।
-এইডা অইলো তুমি একবছরের জন্যি আমার থেইকা আঠারো হাজার টাহা লইছো হের সাক্ষি।
-ওও। তাইলে আমি এখন যাই?
-হ যাও সাবধানে যাইও।
-আচ্ছা মাতবর সাব।
160225132609_bio1_640x360_bbc_nocredit.jpg

Source

কিছুদিন পর.......
-আমরা যে চেয়ারম্যানের কাছে টাহা দিলাম ঘর দিব কইছে। তা আমগো ঘর কই?
-আমরাও তো হেই কথায় ভাবছি।
-দেহি ঘর কবে দেয়।

আরও কিছুদিন পর...
-এই সমির আমারা একবার চেয়ারম্যানের কাছে গেলে হতনা?
-হ ল লোকজন লইয়া বাবুর কাছে যাই।
-হ ল যাই।

-বাবু! বাবু! বাড়িতে আছেন?
-হ আছি। কে রে?
-আজ্ঞে আমরা আচিল পাড়ার লোক।
-ওও আচিল পাড়া? হ কও কি কইবা।
-আজ্ঞে বাবু আমরা টাহা দেললাম ঘর পামু বইলা। কিন্তু আমরা তো ঘরের কোন খবর পাচ্ছিনা। বাবু কবে দিবেন আমগো ঘর?
-হ তোমরা ঘর পাইবা তোমরা সামনের মাসে আইসো।
-আইচ্ছা বাবু। আমরা তাইলে অহন যাই।

পরের মাসে গেলে বলে পরের মাসে আসো এইভাবে ১১ মাস কেটে যায়। পরের বছর আবার বর্ষাকাল চলে আসে। তারপর....
এই সমির,রমেশ চল আমরা চেয়ারম্যানের কাছে যাই। আইজকা হয় ঘর দিব না হয় টাহা।
-হ চল যাই।
-হ হ চল আমরা সবাই যাই।
images (16).jpeg

Source

-বাবু! ওই বাবু! বাবু! ওই বাবু!
-কে বাবা তোমরা?
-আমরা গরীব কিছু মানুষ। এই চেয়ারম্যান আমগো সবার থেইকা কুড়ি হাজার টাহা করে লইছে ঘর দেওনের কথা কইয়া। কিন্তু আজ একবছর হয়ে গেল আমরা ঘর পাইলাম না।
-ওও কিন্তু সেতো একটু আগে সব কিছু নিয়ে চলে গেছে। এই জায়গা আমাদের কাছে আরও ৬ মাস আগে বেইচ্চা দিছে।

-বুড়িমা কন কি? অহন আমগো কি অইবো। আমরা অহন মাতবরের টাহা দিমু কইত্তে?
হায় আল্লাহ এ আমাদের কি সর্বনাশ হইলো। ও আল্লাহ। তুমি বিচার করো।

পরদিন....
-গেরামে পুলিশ কেন? চল আমরা মাতবরের কাছে যাই।
-হ চল চল।
-মাতবর সাব! ও মাতবর সাব!
গেরামে পুলিশ আইছে আমগোরে বাচান।
-পুলিশ আইছে? যাক ভালই হইছে ওরা তাড়াতাড়ি আইছে। অগোরে আমি আইতে কইছি। তাই আইছে। আইজকা তোমরা আমার আঠারো হাজার টাহা ফেরত দেও। নইলে তোমাদের জায়গা আমি ভোগ করুম। তোমরা আর এই গেরামে থাকতে পারবানা।
-কি কইলেন মাতবর সাব? আমরা এই গেরামে থাকমু না? হেইলে কই যামু? কি হবে আমগোর? আমরা তো হগ্গোলে না খাইয়া মরুম। এরহম অবিচার আমগো লগে কইরেন না। আমরা গরিব। আমগো লগে অন্যায় করলে আল্লায় সইবোনা।
-যা তোরা তোদের আল্লার কাছে যা। আমার টাহা আমার উসুল হরতে দে। আইজগোর মধ্যে তোরা ভিটা-বাড়ি ছাড়বি।
-এইরহম অবিচার কইরেন না। আয় আল্লাহ তুমি আমগোরে রক্ষা করো ও আল্লাহ আল্লাহ গো..........

আল্লাহ আল্লাহ রবে আচিলপাড়া গ্রামের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়ে উঠলো। কিন্তু তাদের দিকে তাকানোর কেউ নেই। অবশ্য আল্লাহ তাদের দিকে তাকিয়ে দেখবেন। সেই তাকানোটা হবে অন্য জগতের তাকানো। দুনিয়াতে তাদের ধ্বংস ছাড়া কোন উপায় নেই।এভাবেই আমাদের সমাজের জুলুমবাজরা গরিবদের উপর জুলুম করে। বাংলাদেশ সরকার একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে গরিব-দুঃখীদের ঘর দান করছে। কিন্তু অসাধু কিছু মানুষ, যারা মানুষকে লুটেপুটে খেতে পছন্দ করে সেই ধরনের কিছু নেতাদের কারণে আজকে আমাদের গরিব-দুঃখীরা সরকারি অনেক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সরকার ঠিকই তাদের জন্য আইন প্রণয়ন করে।তাদেরকে ঠিকই সরকার অনুদান দেয়। কিন্তু তা আদৌ তাদের কাছে পৌঁছে না। আরো বরং তাদেরকে সেই সমস্ত অনুদানের লোভ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়ে যায়।আমি এখানে যেটা লিখেছি সেটা নিছক একটা গল্প কিন্তু।গল্পটা "গল্প হলেও সত্যি" যশোর জেলার চৌগাছা থানায় এমন ঘটনাই ঘটেছে।গরিব-দুঃখীদের কাছ থেকে ঘর দেওয়ার কথা বলে বিশ হাজার করে টাকা নিয়েছে।যেটা নিয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।(অথচ ঘরগুলো সরকার বিনামূল্যে দিচ্ছে)
কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাদের কাছে ঘর পৌঁছেনি। এর জন্য সরকার দায়ী না। আমরা অবশ্য সরকারকে দায়ী করি। কিন্তু তৃণমূল পর্যায়ে যে সমস্ত কুকুরগুলা পুষেছে সে কুকুরগুলোর কারণেই সরকারের বদনাম হয়। অবশ্য সরকারের একটা বিষয়ে ভাবা উচিত। যে আমাদের দেশে যেভাবে দুর্নীতি-দুঃশাসন হচ্ছে, তৃণমূল পর্যায়ে কুকুরগুলো যেভাবে গরিব-দুঃখীদের লুটেপুটে খাচ্ছে,ওই কুকুরগুলোর বিষদাঁত ভেঙ্গে দেওয়া। আমি বাঙালি যুবকদের আহবান করব যে, আপনারা আসুন আমরা এই সমস্ত কুকুরগুলোর বিষদাঁত ভেঙ্গে দিতে একতাবদ্ধ হয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ি। প্রয়োজনে 1971 এর যুদ্ধ আবার হবে। তবুও জালিমের বেড়াজাল থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করবোই ইনশাআল্লাহ।

যারা আমার মত steemit এর নতুন তারা যে কোন সমস্যার জন্য সাহায্য পেতে আমার দেওয়া এই লিংকে ক্লিক করে discord সার্ভারে join হতে পারেন। যদি আপনি না বুঝেন তাহলে এখানে দেখুন

steemtuner

join now

Steemitbd

Join now

এখানে আপনি সপ্তাহে সাত দিন দিনের 24 ঘন্টা যে কোন সময় আপনি এখান থেকে যে কোন ধরনের সাহায্য পেতে পারেন। ধন্যবাদ

13

comments