
নিজের পরিকল্পনা কিংবা গোপন কথা কখনোই কারও কাছে প্রকাশ করা উচিত নয়—সে ব্যক্তি যত ঘনিষ্ঠ বন্ধু হোক বা নিকটাত্মীয়ই হোক না কেন। মানুষের সম্পর্কের উষ্ণতার আড়ালেও থাকে অসাবধানতার ফাঁদ। একান্ত আলাপচারিতায় আবেগের বশে কোনো বন্ধু অজান্তেই আপনার পরিকল্পনার কথা এমন কারও কাছে বলে ফেলতে পারে, যার ওপর আপনার বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। আবার কোনো আত্মীয়, যিনি বাইরে থেকে সহানুভূতিশীল মনে হলেও ভেতরে ভেতরে ঈর্ষা কিংবা অসন্তোষে দগ্ধ, তিনি অনিচ্ছাকৃত বা ইচ্ছাকৃতভাবে আপনার সব প্রচেষ্টা ভেস্তে দিতে পারেন। এমন ঘটনা বাস্তব জীবনে বারবার ঘটতে দেখা যায়। তাই শুধু অন্যদের নয়, নিজের জিহ্বাকেও সংযত রাখা জরুরি। কথা বলার মাঝখানে যখন নিজেকে বড় করে তুলে ধরার কিংবা সাফল্যের ইঙ্গিত দেওয়ার প্রবল তাগিদ আসে, তখনই সবচেয়ে বেশি সাবধান হওয়া প্রয়োজন। কারণ অনেক সময় পরে নিজেকেই প্রশ্ন করতে হয়—“আমি কেন এটা বললাম?” এই একটি বাক্যই অনুতাপের ভারে ভারী হয়ে ওঠে। “জিহ্বা বিপদের কারণ হতে পারে” এবং “নীরবতা সোনার মতো মূল্যবান”—এই দুটি প্রবাদ বাক্য শব্দগতভাবে আলাদা হলেও জীবনের বাস্তবতায় একে অপরের পরিপূরক। মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা অবশ্যই প্রয়োজন, কারণ সামাজিক মেলামেশার মধ্য দিয়েই নতুন সুযোগ, নতুন পথ ও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়। তবে সেই যোগাযোগের পরিসরে নিজের ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্ট, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কিংবা গোপন অভিপ্রায় প্রকাশ না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। সব কথা সবার জন্য নয়—এই বোধ যত গভীর হবে, জীবন ততটাই স্থিত ও নিরাপদ হবে। সংযত বাক্য, পরিমিত প্রকাশ আর সচেতন নীরবতা মানুষকে অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা থেকে দূরে রাখে এবং ধীরে ধীরে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। তাই কথা বলুন, মানুষের সঙ্গে মিশুন, কিন্তু নিজের ভেতরের মানচিত্রটি কেবল নিজের কাছেই রাখুন—তাহলেই শেষ পর্যন্ত সবকিছু সুশৃঙ্খল ও সুন্দর থাকবে।