
ক্যামেরা যখন ঘুরে কাজী নুরুল হাসান সোহানের দিকে আসলো, শুধু তার উত্তেজিত হয়ে শ্রীলঙ্কার থিসারা পেরেরার দিকে ছুটে আসাটাই দেখা গেল। কিন্তু এই উত্তেজনার শুরুটা হয় ২০ তম ওভারের প্রথম বল থেকেই। এক পর্যায়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান মাঠের পাশ থেকে ইশারায় ব্যাটসম্যানদের মাঠ ছাড়তে বলেন। দুই দলেই তখন উত্তেজনা।
শেষ পর্যন্ত দুই উইকেটের জয় নিয়ে ঠিকই মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ কিন্তু মাঠের উত্তেজনা ছুঁয়ে গেছে ক্রিকেট বিশ্বে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা কথা বলছেন এমন আচরণের পক্ষে-বিপক্ষে। তবে এমন আচরণ কোনো পক্ষের কাছেই গ্রহণযোগ্য নয়, এমনটাই মনে করেন বাংলাদেশের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। তার মতে অন্তত বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের মাথা ঠাণ্ডা রাখা উচিত ছিল।
নিদাহাস ট্রফির শুক্রবারের ঘটনাবহুল ম্যাচ শেষে ধারাভাষ্যকারের কাছে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তামিম বলেন, ‘এটা ভদ্র লোকের খেলা। সবারই ভালো আচরণ করা উচিত ছিল বিশেষ করে আমাদের দলের কাছে আরও ভালো আচরণ আশা করেছিলাম। কিন্তু এখন যা হওয়ার হয়ে গেছে। শ্রীলঙ্কা খুব ভালো বন্ধু। মাঠের এই ঘটনা বাহিরে প্রভাব ফেলবে না।’
২০তম ওভারের প্রথম দুই বলই স্ট্রাইকে থাকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মাথার উপর দিয়ে চলে যায়। দ্বিতীয় বলে লেগ আম্পায়ার নো বল দিলেও অনফিল্ড আম্পায়ার সেটা মানেননি। এ নিয়েই প্রথমে উত্তেজনার শুরু। এরপর পানি নিয়ে মাঠে আসা বাংলাদেশের দ্বাদশ ক্রিকেটার সোহানের সাথে কথা কাটাকাটি শুরু হয় পেরেরার। এক পর্যায়ে সে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমে।
এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘এটা খুবই আবেগঘন ছিল। আমরা দেখেছি লেগ আম্পায়ার নো বল দিয়েছে, কিন্তু সেটা আমরা যখন পেলাম না তখনই আমরা অভিযোগ করেছি। সব বিভ্রান্তির শুরু ওখান থেকেই।’
শেষ চার বলে ১২ রান। প্রথমে এক চার, এরপর দুই রান এবং ৫ম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে যখন পুরো রানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামকে নিশ্চুপ করে দিলেও পুরো বাংলাদেশ তখন আনন্দে উদ্বেলিত। তামিম বলেন, ‘শেষের ছক্কাটা অবিশ্বাস্য। আমার বোঝানোর ভাষা নেই। আমিও কিছুটা ভালো খেলেছি, তবে আরও ভালো হওয়া উচিত ছিল। কিছুটা কঠিন ছিল কিন্তু আমরা ভালো করে শেষ করেছি।’