রোজনামচা

By @fahmidamou5/9/2025hive-190212

পৃথিবীটা ছোট হয়ে অনেক অভাবনীয় সব সুযোগের উন্মোচন হয়েছে বটে, কিন্তু সেই সাথে দৈনন্দিন জীবনের নান্দনিকতাগুলো কেমন যেন স্তিমিত হয়ে এসেছে মনে হয়।

নিরন্তর ছুটে চলার একঘেঁয়েমিতে আগে মাঝেমধ্যে প্রচন্ড হাঁসফাঁস লাগতো, তবুওতো সেটা একটা প্রকাশ ছিলো শ্রান্তির, আজকাল কেমিন যেনো হাঁসফাঁস লাগা, ক্লান্তি লাগাটাও চলে যাচ্ছে।
একটু মুক্তি পেলে, দু'দিন ছুটি পেলে সে কত আনন্দের ব্যাপার ছিলো। কত সৌখিনতা, বান্ধব সময়, আর প্রাণে পানি আসার কলকাকলি ছিলো।
জনাকীর্ণ, লোকে লোকারণ্য সাগরের পাড়েও আকন্ঠ মুগ্ধতা ছিলো, বিচ্ছিরি শব্দদূষণও সেদিন শ্রুতিমধুর লাগতো।
কোনো যে বিশেষ উপলক্ষ ছিলো উদযাপনে তা নয়, ছুটিটাই একটা উপলক্ষ, একটা উদযাপন ছিলো। কোথায়, কার সঙ্গে, কিভাবে তাতে কিছু আসতো যেতো না!

আমি ঘরকুনো হতে হতে আজকাল কূয়ো'র ব্যাঙ'কেও ছাড়িয়ে গিয়েছি। অমলকান্তির একনিষ্ঠ ভক্ত হতে যেয়ে নিদারুণ বাৎসল্যহীন হয়ে গিয়েছি, যাচ্ছি। অমলকান্তিকে পেলে প্রশ্ন করতে পারতাম, রোদ্দুর হবার পরবর্তী পরিণাম কিভাবে সামলেছিলো। তারপর ভাবি, ব্যাটা অপরিণামদর্শী বলেইতো এইসব ভজকট করতে পেরেছিলো, তার আবার পরিণামদর্শীতায় কাজ কি!

আমার কফি হাউজের চেয়ার খালি হতে হতে শেষমেশ টিকে ছিলো নিখিলেশ, সেও পাততাড়ি গুটিয়ে বিদায় নিয়ে নিলো। রমা রায়টা থেকেও নেই তাই তাকে গোণায় ধরা যায়না। এমন না যে জীবন আমার কফি হাউজের আড্ডা ছাড়া স্থবির ছিলো কখনো। বরং সবসময় আমি আমিতে এতই মেতে ছিলাম, যে যখন সকলের কফি হাউজের আড্ডা তুঙ্গে, আমার তখন সেটার মিষ্টতা সম্পর্কে ধারণাই ছিলোনা।
এখন সেটা পাওয়ার আর হারিয়ে যাবার মাঝখানে আমি আপাতদৃষ্টিতে কোনো পার্থক্য পাইনা কিছু বিষম স্মৃতিকাতরতা ছাড়া।

তখন ভাবতে বসি, এত প্রাণচঞ্চল, উচ্ছ্বাসে ভরপুর বালখিল্যতায় ভাটা পড়লোই বা কখন, জীবন এত নিরানন্দময় হলোই বা কখন! এ যেনো আরোগ্যাতীত কর্কট রোগ! উপলব্ধিতে দেরী, প্রতিকারের উর্ধ্বে।
একবার ভাবি বয়সের দোষ বোধহয়, তারপর ভাবী বয়সকে মিছে দোষ দিয়ে পার পাওয়া যায় না এ যুগে অন্তত।
আমার মৃত্যুকে ভয় লাগেনা আজকাল, ভয় লাগে এই একঘেঁয়ে বেঁচে থাকাটাকে। মানুষ নরকের আগুণ ভয় পায়, সাপ-বিচ্ছুর ভয়ে কাতর, আমি যমের থেকেও বড় ভয় পাই একঘেঁয়েমিকে।
খরার মতো খটখটে জীবন যেনো এক বর্ষাতেও এর ফাটলের দাগ ঘুচবেনা মত একঘেঁয়েমিতে আক্রান্ত হয়েছি মনে হয়। উপলব্ধিটা ভীষণ ভয়ংকর আর অসহায়কর। মৃত্যু ছুঁয়ে আসা শরীরের থেকেও স্যাঁতসেঁতে মাত্রার শীতল।

যখন ভাবার চেষ্টা করি সত্যবতী'র মত দূর্ভাগা হয়ে সে যুগে জন্মাইনি উপরন্তু তবুও একজন বেণীমাধব আমার আছে তখন খানিকটা হলেও নিজের ভাগ্যে সুপ্রসন্ন হতে চাই। কিন্তু আবার মনে হয় ঠিক সেই একই কারণে আমিও শেষটায় এসে অনিয়ন্ত্রণহীন বস্তুর ক্ষেদ নিয়ে বকুলের মত অল্প অল্প করে মিইয়ে যাবো।
আবার এটাও জানি, হয়তো এই নির্লিপ্ত শীতনিদ্রা একদিন গলে যাবে আবারও। বালখিল্যতায় ছেয়ে যাবে জীবন, রাগ, ক্ষোভ, সুখ, কষ্ট, আনন্দ ছুঁয়ে যাবে বারবার, গুনগুনিয়ে অপরাপর গেয়ে যাবে বেঁচে-আছো-সই!
হয়তো!

90

comments