১১. রোজা ভাঙতে দেরি করা: আমাদের অনেকেই ইফতারের সময় মাগরিবের আযান শেষ হওয়া পর্যন্ত বসে থাকেন, আযান শেষ হলে রোজা ভাঙেন। সূর্য অস্ত যাবার পর আজান দেয়ার সাথে সাথে রোজা ভাঙা সুন্নাহ সম্মত। আনাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটাই করতেন। (মুসলিম)
১২. ইফতার বেশি খেতে গিয়ে মাগরিবের নামাজের জামাত ধরতে না পারা: আমরা অনেকেই ইফতারিতে এত বেশি খাবার নিয়ে বসি যে সেগুলো শেষ করতে গিয়ে মাগরিবের জামাত ধরতে পারি না। এটা একেবারেই অনুচিত। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কয়েক টুকরা খেজুর মুখে দিয়ে ইফতার ভেঙে অতঃপর মাগরিবের নামাজ এর জন্য চলে যেতেন। নামাজ শেষ করে এসে আমরা ফিরে এসে ইচ্ছা করলে আরও কিছু খেতে পারি।
১৩. আমাদের দুআ কবুল হওয়ার সুযোগ ছেড়ে দেয়া: সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির দুআ রোজা ভাঙার সময় আল্লাহর নিকট কবুল হয়ে থাকে। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেন, ‘তিন ধরনের ব্যক্তির দুআ ফিরিয়ে দেয়া হয় না- ১) একজন পিতার দুআ, ২) রোজাদার ব্যক্তির দুআ, ৩) মুসাফিরের নামাজ। (বায়হাকি)। আমরা এই সময়ে দুআ না করে বরং খাবার পরিবেশন, কথাবার্তা ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত থাকি।
১৪. রোজা রাখা অথচ নামাজ না পরা: সিয়াম পালনকারী কোন ব্যক্তি নামাজ না পরলে তার সিয়াম কবুল হয় না। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘সালাত (নামাজ) হচ্ছে ঈমান এবং কুফর এর পার্থক্যকারী’। (মুসলিম)
১৫. রোজা রাখা অথচ হিজাব না পরা: মুসলিম নারীদের জন্য হিজাব না পরা কবীরা গুনাহ।
১৬. পরীক্ষা কিংবা কর্মব্যস্ততার জন্য রোজা না রাখা: পরীক্ষা কিংবা কর্মব্যস্ততার কারণে রোজা না রাখা শরীয়ত সম্মত নয়। সকালে পড়ালেখা করতে কষ্ট হলে রাতে করার সময় থাকে।
১৭. স্বাস্থ্য কমানোর উদ্দেশ্যে রোজা রাখা: স্বাস্থ্য কমানোর জন্য রোজা রাখা উচিত নয়। এটি অন্যতম একটি বড় ভুল যা আমরা করে থাকি। সিয়াম পালন করার একমাত্র উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। যদি স্বাস্থ্য কমানোর উদ্দ্যেশ্যে কেউ রোযা রাখে তাহলে তা শিরকের (ছোট শিরক বা শিরকুল আসগার) আকার ধারণ করতে পারে।
১৮. তারাবির নামাজের রাকাআত সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ: তারাবির নামাজের কোন নির্দিষ্ট সংখ্যক রাকাআত নেই। আট এবং বিশ রাকাআত-এ দুটোই শরীয়তসম্মত।
১৯. শুধু ২৭ রমজানের রাতকে লাইলাতুল ক্বাদর মনে করে ইবাদত করা: আমরা অনেকেই কেবল ২৭ রমজান রাতে লাইলাতুল ক্বাদর পাওয়ার জন্য ইবাদত করে থাকি, কিন্তু অন্যান্য বিজোড় রাতগুলিকে প্রাধান্য দেই না। অথচ রাসুল(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেছেন, ‘রমযানের শেষ দশ রাত্রির বিজোড় রাতগুলিতে লাইলাতুল ক্বাদর তালাশ কর।’(বুখারি ও মুসলিম)
২০. ঈদের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে রমজানের শেষাংশ অবহেলায় পালন করা: আমরা অনেকেই ঈদের প্রস্তুতি (নতুন কাপড় কেনা, খাবারের আয়োজন করা, মার্কেটে ঘোরাঘুরি করা) নিতে গিয়ে রমজানের শেষ দশ দিন অবহেলায় পালন করি (ঠিকমত ঈবাদত না করা এবং লাইলাতুল ক্বাদরের তালাশ না করা)। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজানের শেষ দশ দিন আল্লাহর ইবাদতে খুব বেশি সময় নিমগ্ন থাকতেন, কেনাকাটি করায় ব্যস্ত থাকতেন না। রমজান শুরু হবার আগেই আমাদের কেনাকাটি শেষ করা উচিৎ।
২১. অহেতুক ইফতার পার্টির আয়োজন করা: যদিও অপরকে ইফতারি করানোতে সওয়াব আছে এবং এ কাজে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে, তথাপি আমাদের অনেকেই মুখরোচক ইফতার পার্টির আয়োজন করে থাকেন, যা জরুরি নয়।