Love ভালবাসার এই দিক সেই দিক

By @aabir076511/15/2017love

বেশিদিনের প্রেমে প্রেমিকদের নিয়ে প্রচলিত সবচেয়ে বড় অভিযোগ হল, "তুমি এখন আর আমার দিকে তাকাও না। আগের মত ভালোবাসো না।"
এজন্য, প্রতিটা মেয়ের উচিৎ বেকার শ্রেণির কিংবা পড়াশুনা করছে এমন ছেলেদের সাথে প্রেম করা। শুধু যদি সারাজীবন তার প্রেমই লাগে তাহলে উচিৎ স্যাটেল হয়ে যাওয়া ছেলের সাথে ব্রেকাপ করে আবার নতুন করে সারাদিন ফ্রি থাকা কোন ছেলের সাথে প্রেম করা।
প্রেমিকাদের টাইম লাগে, সারাদিন কেয়ার টেয়ার নেয়া লাগে, ঘন্টায় ঘন্টায় ফোন করা লাগে, মন ভালো রাখতে হয়, রাগ ভাঙাইতে হয়, সারাদিন সবকিছু করার পরও দিনশেষে তাদের কাছ থেকে "আমাকে কেউ ভালোবাসে না" টাইপের কথা শোনা লাগে, আরও এটা লাগে সেটা লাগে... এসব আসলে কোন চাকরি করা ছেলের পক্ষে সম্ভব না। আজকাল আবার শুধু জব করলেই হয় না। সাথে আরও অনেককিছু করা লাগে। টুকটাক ফ্রি ল্যান্স কাজ করতে হয়। এক চাকরির টাকা দিয়ে এখন সংসার চলে না।
সেই অতিরিক্ত কাজ করতে গেলেই সমস্যা। তখন প্রেমিকাদের টাইম কম হয়। তাদের ভালোবাসা কম হয়, প্রেমে টান পড়ে। সাথে আরও এক শ তিরিশটা অভিযোগ।
ছেলেটা কিন্তু শুধু নিজের পেট ভরানোর জন্য খাটে না। তাকে খাটতে হয়। একটা পরিবারের দায়িত্ব আরেকজনের কাঁধ থেকে নিতে হয়, সাথে অন্য একটা পরিবারের জন্ম দেয়ার প্রিপারেশন নিতে হয়।
স্লো মোশনে বাদাম ছিলায়া দুই ঘন্টা শুধু স্টুডেন্ট লাইফেই কাটায়া দেয়া যায়। তারপরের লাইফে না। আজকাল কম্পিটিশন আরও আগে থেকে শুরু হয়ে যাচ্ছে। বাচ্চা বাচ্চা ছেলেরা চমৎকার সব প্রোজেক্ট দাঁড় করায়ে স্টুডেন্ট লাইফেই স্যাটেল হয়ে যাচ্ছে। এদের কিন্তু সত্যিই অত সময় নাই।
এই যে টাইম দিচ্ছে না বলে প্রেম কমে যাচ্ছে বলতেছেন, ছেলেটা চাকরি ছেড়ে দিক। দুই মাস বেকার হয়ে আপনার পিছে পিছে ঘুরুক। পকেটে টাকা না থাকলে তারপরের মাসে আপনিই তাকে টা টা, বাই বাই বলে দেবেন। সবাই লাইফের সিকিওরিটি চায়। এটাই জীবন।
ভালোবাসতে হলে সারাদিন টাইম দেয়া লাগে... কেয়ার নেয়া লাগে... তাদের আবগে অনুভূতি নিয়া পিএইচডি করা লাগে... তাকে দাম দেয়া লাগে... ভালোবাসায় দূরত্ব হয়, অমক হয়, তমক হয়... এইসব আবেগী কথা দিয়ে জীবন চলে না। বাপেরা যে টাকা দিয়া ফ্ল্যাট ভাড়া দিত, ইউটিলিটি এখন সেই টাকার চেয়ে বেশি। ঢাকা শহরে অন্তত ৫০ হাজার টাকা ছাড়া সংসার চলে না। এখনি দুই জনের চাকরি করা লাগে। বাচ্চা কাচ্চা হইলে রাতের বেলায়ও তখন ওয়েব ওয়ার্ক করতে হবে দুইজন মিলা।
রোমান্টিকতা সেই ওয়েডিং ফটোগ্রাফি পর্যন্তই। এর পরের গল্পটা শুধু স্ট্রাগলের, পরিশ্রমের।
একটু এজ ডিফরেন্সের কারণে এসব বেশি হয়। দেখা যায় ছেলেটা চাকরি করে, জীবনের প্যারা খেয়ে রসকষ হারিয়ে ফেলেছে ততদিনে। অথচ প্রেমিকা তখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। বিশেষ বিশেষ দিনে তখনো রং দিয়ে ডিপার্টমেন্ট সাজায়। তখন বোঝাপড়ার সমস্যা হয়, টাইম নিয়ে টানাটানি হয়। এইসব কারণেই হয়ত তখন ব্রেকাপ টেকাপ হয়।
আপনি নরম গরম আলাপ সালাপ করে সারারাত কাটায়ে একদিনের সুখ নেবেন নাকি ছেলেটার পাশে থেকে সেই সময়টাতে এক্সট্রা কিছু কাজ করতে দিয়ে নিজেদের ফিউচার আরও বেশি সিকিওর করবেন... চয়েস ইজ ইওরস!
courtesy : তানভীর মেহেদী

comments