শেয়ার ইট অন করেন মিয়া, যা আছে দিয়া দেই সব। ভাই- ভাই মোবাইল

By @aabir076511/16/2017new

আমরা হইলাম পুরাপুরি একটা সেন্টি খাওয়া জাতি। কথায় কথায়, তিন বেলা আয়োজন করে ভাতের বদলে আমরা সেন্টি খাই।
অচেনা কেউ একজন। তার সাথে নাম মিলা গেলো। সাথে সাথে মিতা ডাইকা অস্থির অবস্থা।
"মিতা আসেন বসেন, চা চু খান"
এক দুই দিনের পরিচয়। একদিন সিগারেট খাইতে গিয়া দেখা গেল দুইজনেরই সেম ব্র‍্যান্ড। তখন আবার নতুন কইরা জড়ায়ে ধরা ধরি শুরু হয়। একজন আরেকজনরে সিগারেট ধরায়া দেয়।
"ভাই, আমার দিকে ঘুইরা বসেন। এক জায়গায় অ্যাশ ফেলেন।"
দুইজনেই শব্দ কইরা চা খায়। আশেপাশের সবাই তাকায়া আছে। তারা শব্দ করতে করতে একজন আরেকজনের দিকে আগায়া যাইয়া কাপ রাইখা সেই হাত দিয়া হ্যান্ডশেক করে।
"চা খাওয়ার আসল মজাটা কেউ বুঝলো না ভাই। কী, আস্তে আস্তে শব্দ না কইরা মিট মিটায়া চা খায় এরা।"
সেইম মডেলের মোবাইল হইলে তো কথাই নাই।
"শেয়ার ইট অন করেন মিয়া, যা আছে দিয়া দেই সব। ভাই- ভাই মোবাইল।"
সেইম ব্র‍্যান্ডের ঘড়ি, একই দোকানের জুতা, সেইম ব্র‍্যান্ডের শার্ট। এইসব মিলা গেলে, ভাই আমার ভাই টাইপের অবস্থা শুরু হয়।
"আরে মিয়া। বোতামও দেখি আমার মত সবগুলা লাগায়া রাখছেন। কি এক স্টাইল আসলো। আগে এমনে সব বোতাম লাগায়া রাখলে মানুষ বলদা কইতো! আর এখন এইটাই স্মার্টনেস।"
ইনবক্সে দেয়া ইমো মিলে গেলে, স্ট্যাটাসের বক্তব্য মিলে গেলে, ছবির ক্যাপশন মিলে গেলে আমরা সেন্টি খাই।
রাস্তায় কেউ একজন মোবাইলে জোরে জোরে "বাবু, প্লিজ একটু বোঝার চেষ্টা কর" টাইপের কথা বললে আমরা ইমোশনাল হয়া যাই। বেচারার ঘাড়ে হাত রাইখা সান্ত্বনা দিয়া আসতে ইচ্ছা করে।
আবার দেখা গেল দুজনের সেইম কালারের লিপস্টিক। মুখের মধ্যে দেয়া ফাউন্ডেশনের লেয়ারও সেইম। মেকাপ ধুইতে এক সমান পানি লাগবে দুইজনের। রীতিমত জড়ায়ে ধরার মত অবস্থা।
"তুই ই আমার আসল বেস্টি রে। আয় সেলফি তুলি, আমার মত করে পাউট দে। আরেকটু গোল কর। ঠোঁট সামনে, আরও সামনে। পারফেক্ট, এইবার পারফেক্ট।
Courtesy: তানভীর মেহেদী

comments